অতঃপর আরেকটি অলস দিন

সামনের পরীক্ষার আগে আর তিন দিন বন্ধ আছে তাই আজকে দিনটা তাইরে নাইরে করতে করতেই গেল। অবশ্য সব সময় এরকমই যায়। তারপর আস্তে আস্তে দিন কমে, তাইরে নাইরে কমে আর শুধু বাড়ে বাকী থেকে যাওয়া পড়া।

গতকাল ঠিক করেছিলাম আজকে সকালে উঠে ভার্সিটি যাব। অনেকদিন মন প্রাণ খুলে আড্ডা হয় না তাই পোলাপাইনের পড়া নষ্ট করে আড্ডা দিব। কিন্তু আফসোস কারণ আলসেমী খারাপ জিনিস। তাই সকালে নাস্তা করার পর পরই মনে হল, এহে এত কষ্ট করে হাটাহাটি না করে এবং অন্যদের পড়া নষ্ট না করে বাসায় ঘুমানোই ভাল। তাই চুপচাপ ঘুমানোর চেষ্টা নিলাম। তবে তাতে যে খুব বেশী একটা সফল হয়েছি তা বলা যাবে না কারণ মা একটূ পরে পরেই এসে খোঁজ করে আমি কি সজাগ না ঘুমিয়ে গেছি। চালাক মায়ের ততোধিক চালাক সন্তান। তাই হাতে সদা প্রস্তুত একটা খাতা। যখন পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় তখন কোন রকমে চোখ খুলে সেই খাতায় চোখ বুলাই। মা কাছে এসে যখন প্রশ্ন করে- এই, তুই সারাক্ষণ শুয়ে শুয়ে কি পড়িস? আমি ভাল ছাত্রের মত উত্তর দেই- নাহ পড়তে পড়তে ক্লান্ত লাগছে তো তাই একটু গড়াগড়ি দিচ্ছি। এইভাবেই চলল সারা সকাল ঈঁদুর বিড়াল খেলা। এটা অবশ্য নতুন না। স্কুল জীবনের শুরু থেকেই আমার সাথে আমার মায়ের এরকম ঈঁদুর বিড়াল খেলা চলছে 😀

সন্ধ্যায় পড়তে বসেও যে খুব একটা লাভ হল বলা যায় না। কি কারণে যেন খুব একটা মন বসল না। মাঝে মাঝে কেন জানি এমন হয়। ঠিক কোন কারণ নেই কিন্তু মন বসে না, কিছুতেই। সম্ভবত ইহা এক প্রকারের ফাঁকিবাজী অসুখ 🙂

গতকাল ওয়ার্ড প্রেসের এক জনের ব্লগে দেখলাম, লেখক বিভূতিভূষণ এর ছেলে মারা গেছেন। তিনি নিজেও একজন সাহিত্যিক ছিলেন। পথের পাঁচালী আর অপরাজিত এর পরের পার্ট কাজল যেটা কিনা বিভূতিভূষণ শেষ করে যেতে পারেন নি সেটা পরে উনিই শেষ করেন। খবরটা শুনে একটু খারাপ লাগল। আমার সবচেয়ে সিরিজ গুলোর একটা পথের পাঁচালীর সাথে এই লোকটা জড়িত সম্ভবত তাই। ব্লগের লিংকটা রোকন কে ফেসবুকে শেয়ার দিলাম। একসময় আমাদের বহু রাত পার হয়েছে শুধু পাঁচালীর গল্প করে।

আচ্ছা কখন কখন মানুষের নিজেকে অসহায় মনে হয়? গত কিছুদিন ধরে এরকম একটা অনুভূতি হচ্ছে। আসলে যখন বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে যেটা আমি চাই না আর আমার সেখানে দেখা ছাড়া কিছুই করার নাই তখন আসলেই নিজেকে অসহায় মন হয়, খুব অসহায়।

Advertisements

11 thoughts on “অতঃপর আরেকটি অলস দিন

  1. হুম….যখন কোন কিছু নিজের মন মত হয় না তখন নিজেকে অসহায় মনে হয়…
    এক্ষেত্রে আড্ডা টা টনিক হিসেবে কাজ করে…তবে পরিমানে অল্প…

  2. নিবিড় ভাইয়া কী সুন্দর করে টুকটুক করে লিখতে পারে!!
    আমার ভাষা ইদানিং যেন সব হারায়া গেসে!

    পথের পাঁচালি দারুণ একটা জিনিস ছিলো তাইনা? এখনও স্বপ্নময় লাগে ওই বইটা পড়ার সময়টা স্মরণ করলে……

    • স্যার, গালিচা লাগান এসি রুমে সুন্দরী সেক্রেটারীদের সামনে অফিস করলে এমন হবে 😛
      চিন্তা নিয়েন না। শব্দেরা একটু আলাভোলা টাইপের হয়। মাঝে মাঝে হারিয়ে গেলোও এরা ঠিকি পথ চিনে ঘরে ফিরে আসবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s