মাশরুম পোকাদের গল্প

০।
এইটা একটা সিরিজ হইতে পারে আবার নাও হইতে পারে। আসলে পুরাটাই ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল কারণে পোকারা অনেক বেশী ইচ্ছার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।

০১।
আসলে কিছু লিখতে ইচ্ছে করছিল। আর কিছু লিখার জন্য আবজাব ব্লগর ব্লগর থেকে ভাল আর কী হতে পারে। এখানে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না, খুব বেশি ভাবতে হয় না। যা মনে আসে তাই লিখে ফেলা যায় ইচ্ছেমত। কেউ পড়লে পড়ল না পড়লে নাই। কেউ বুঝলে তো বুঝল আর যদি কেউ না বুঝে তাইলে ভাব নেওয়া যায়- আহারে বুঝেন নাই? আসলে বুঝবেন কেম্নে, এইটাতো সময়ের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে থাকা লেখা। আপনি নিজের সময়ে বন্দী তাই আমার লেখা বুঝবেন না। তারেক ভাইয়ের সাথে আজকে এইটা নিয়ে মজার মজার অনেক গল্প হইল। যাহারা আসেন নাই তাহারা মিস করছেন 🙂

০২।
অনেকদিন ধরের তারেক ভাইয়ের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতাছিলাম, ভাই বই টা দেন, বইটা দেন। কালকে মনে হয় বেশিই ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম তাই আজকে দেখি তারেক ভাই নিজেই ফোন দিয়া বলে- কী মিয়া বই আনব নাকি আজকে? ঠিক হইল কোঞ্চিপায় হাজির হব একটু পরেই। কিন্তু কীসের কী? বাসা থেকে বাইর হবার সময় পিতাজান বলে টিভিতে নাকি ছবি আসে না, বাইরে যাওয়ার আগে ঠিক করে যেতে হবে। এদিকে লোডশেডিং তাই একঘন্টা পরে কারেন্ট আসলে ঠিকঠাক করে বের হলাম। এদিকে কোঞ্চিপায় যেতে যেতে প্রায় সাড়ে সাতটা বাজে। গিয়ে দেখি তারেক ভাই খালি একাই চাচীর দোকানে। বাকিরা আসেন নাই তাই অতঃপর সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আমাদের দুইজনের আড্ডা।

০৩।
চাচীর দোকানে আজকাল লোকজন অনেক বেড়ে গেছে। চুপচাপ কথা বলা বড়ো কষ্ট। অবশ্য বুঝা যায় চাচীর ব্যবসার অনেক উন্নতি হইছে। আগে ছিল টংঘর আর এখন ভ্যানের উপর উঠছে। কে জানে কোনদিন দেখা যাবে মোবাইল হোম জাতীয় দোকান হয়ে গেছে। অবশ্য তখন নিশ্চয় খাবারের দাম বাড়বে। তাইলে থাক চাচীর দোকান এমনই থাক, আমাদের মত ছন্নছাড়া থাক। দেখছেন মানুষ কী স্বার্থপর!!! নিজেরা ছন্নছাড়া দেখে অন্যরাও যেন ছন্নছাড়া থাকে তাই চায় 🙂

০৪।
মাশরুম আড্ডায় আমার মতে সবচেয়ে কম কথা বলা লোক মনে হয় আমি আর তারেক ভাই। তারেক ভাই যা কথা বলে তার বেশির ভাগ গান। সারাক্ষণ এই লোকটা আড্ডায় এসে গান গায় নাইলে গান শুনে। কী অদ্ভুত! গান শুনতে হলে আড্ডায় আসার কী দরকার? তারপরেও লোকটা প্রায় প্রতিদিন আড্ডায় আসে, গান গায়, গান শুনে এবং আমরাও সেই গান গাওয়া শুনি, তার শোনা গান শুনি। এইভাবেই প্রতিদিন আড্ডা হয়, চা-বিড়ি-সিগ্রেট হয়। আবার দেখেন আমি সিগ্রেট খাই না কিন্তু কলেজে থাকতে আমার এক বন্ধু বলছিল সিগ্রেটখোরদের সাথে নাকি যারা সিগ্রেট খায় না তাদের বেশিক্ষণ আড্ডা হতে পারে না কারণ তারা দুই দল নাকি দুই দল কে দেখতে পারে না। তাইলে বলেন আমি আর সুহান কেমনে এই আড্ডায় আসি? আসলে সত্যিকারের আড্ডাগুলো এরকমই, সেখানে সবাই কে সব কাজ করতে নাই।

০৫।
জাফর ইকবাল তার সায়েন্স ফিকশন গুলোতে একটা লাইন প্রায়ই ব্যবহার করেন, সেটা হল- প্রকৃতি শূণ্য স্থান সহ্য করে না। কথাটা মনে হয় ঠিক। কারণ আজকে খেয়াল করলাম অন্যদিন যেখানে আমার আর তারেক ভাইয়ের আড্ডাতে কম কথা বলা হয় সেখানে আজকে দুই জন প্রায় পুরা টাইম বকবক করলাম। যে কেউ দেখলে বাঁচাল বলত নিশ্চিত। আসলে কথা হল প্রকৃ্তি শূণ্য স্থান সহ্য করে না তাই আজকে দুই জনে বাকিদের কোটা পূরণ করলাম 😀

০৬।
কথায় কথায় কেমনে জানি রাজনীতির কথা উঠল। রাজনীতির কথা থেকেই নেহেরুর কথা উঠল। লোকটা তার ছোট মেয়ের কাছে যেসব চিঠি লিখছে আর সেই সব চিঠি যে মেয়ে এত ছোট বয়সে পড়ছে সে মেয়ে রাজনীতি সচেতন না হলে কে হবে বলেন? আর আফসোস এইখানেই। এই মেয়েও ফ্যামিলি ট্রাডিশন ধরে রেখে রাজনীতিতে আসেছে আর আমাদের দেশেও অনেকে ফ্যামিলি ট্রাডিশন ধরে রেখে রাজনীতিতে আসে। শুধু একবার তুলনা করেন। ইন্দিরা গান্ধী মাত্র ক্লাস নাইনেই বাবার চিঠির থেকে বিশ্বরাজনীতি নিয়ে যে ধারণ পাইছিল সেইটা আমাদের বেশির ভাগ ধাড়ি ধাড়ি রাজনীতিবিদদের নাই। এরা শুধু বাপ চাচার জোরেই আসে। নিজেদের শিক্ষার কোন ইচ্ছাই এদের নাই। আসলে আড্ডায় এই নিয়া বেশি কথা আসত না কিন্তু একটা ব্যাপারে তারেক ভাই আর আমি দুই জনেই একমত হলাম যে রাজনীতির প্রভাব আমাদের জীবনে এত বেশি যে একে অবজ্ঞা করার কোন উপায় আমাদের নাই। অনেকে ভাব নেয় আমি রাজনীতি পছন্দ করি না, এর ব্যাপারে কোন খোজ রাখি না। আরে বোকা খোজ না রাখলে হবে? কারণ এইটা তোমার জীবন কে যতটা প্রভাবিত করে তা যদি সত্যিকারে বুঝতে তাইলে এই কথা বলতে না।

০৭।
আজকে আবার দার্শনিক নিয়ে আর দর্শন নিয়েও কথা হল। অবশ্য এই ব্যাপারে তারেক ভাই মূল বক্তা আর আমি মূলত শ্রোতা। এই সময় আড্ডার বাকিদের নিয়েও কিন্তু প্রচুর উদাহারণ দেওয়া হইছে। এই ব্যাপারে অবশ্য বিস্তারিত বলা যাবে না। মিশেল ফুকুর নিষেধ আছে 😀

০০।
ভাইবেন না আজকে খালি ভারী ভারী কথা হইছে। অনেক লাল নীল কথাও হইছে। বালিকা থেকে সিনেমা আর অনেক কিছুই ছিল তবে সেগুলো আজকে না, অন্য আরেকদিন হবে 🙂

Advertisements

4 thoughts on “মাশরুম পোকাদের গল্প

    • মাশরুম আড্ডা হল মাশরুম খেতে খেতে একদল ছন্নছাড়া পোলাপাইনের যেমন তেমন আড্ডা। এইখানে ভাল কথাও হয়, সাথে কিঞ্চিত খারাপ কথাও হয়। বই নিয়ে কথা হয় আবার বালিকা নিয়েও কথা হয়। সিনেমা নিয়ে কথা হয় আবার রাজনীতি নিয়েও কথা হয়। প্রায় সন্ধ্যায় আমরা কয়েকজন আড্ডাখোরদের মত আড্ডায় যাই এবং কয়েক ঘন্টা আড্ডা খেয়ে আবার ফেরত আসি 😀

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s