এইসব সাদা কাল দিনে ০১

০।
ছোটবেলায় শুনেছিলাম- পড়াশুনা করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে। সে নিয়ম অনুযায়ী আমার নিয়মিত গাড়ীতে চড়া উচিত কিন্তু যদিও পড়াশুনা করি তবুও গাড়ীতে তেমন একটা উঠা আর হয় না। বরং বলা উচিত গাড়ীতে চড়তে ইচ্ছে করে না। কারণ? কারণ আসলে দুইটা। এক, গাড়ীর পেট্রোলের গন্ধ বড়ই বিতিকিচ্ছিরি লাগে। দুই, মোশন সিকনেস। এর মধ্যে দুই নাম্বারটা বড়ই বিব্রতকর এক জিনিস। মোটামুটি দুই তিন ঘন্টা গাড়িতে থাকলে অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে যায়। তাই একটু দূরে কোথাও যাওয়ার কথা উঠলে আমি ট্রেনে যাওয়ার ফন্দি ফিকির করি। আর এই শহরেতো বিশাল বিশাল রাস্তা হেটেই মেরে দিই। আমার এই মোশন সিকনেস নিয়ে আমার বাপ মা মহা চিন্তিত। তাদের ভাবনা- এই ছেলে ভবিষ্যতে চাকরী করবে কেমনে? এ ছেলেরে দিয়া তো কোন প্রেস্টেজিয়াস চাকরি হবে না, গাড়িই চড়তে পারে না ঠিকমত। আমার অবশ্য এইসব নিয়া খুব একটা টেনশন নাই। তবে খেয়াল আছে ছোটকালে বাপ মা একবার এই ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়েছিল। ডাক্তারের উত্তর ছিল তখন- আরে ছোট বয়সে এইসব একটূ একটূ হয়, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিসের কী? যে কে সেই। তবে অবস্থা যেহেতু এখনো খুব একটা পালটায় নাই তাই ধরে নেওয়া যায় আমি এখনো বয়সে ছোটই আছি 😀

০১।
আজকে একটু আগে বাংলাদেশ খেলায় জিতে গেল, নিউজিল্যান্ডের সাথে। পুরা খেলাটা দেখেও শেষটা দেখতে পারলাম না। শেষদিকে কারেন্ট চলে গেল। কারেন্ট আসার অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পরলাম। উঠে দেখি খেলা শেষ। আফসোস শেষটা দেখতে পারলাম না। তবে যাই হোক বাংলাদেশ জিতছে এইটা আসল কথা। আর বড় হল বাংলাদেশ সিরিজে ৩-০ তে জিতে নিয়েছে। আজকে খেলা দেখে সত্যিকারের তৃপ্তি পেলাম। শুরুতে উইকেট হারানোর পরও বাংলাদেশ ভরসা হারায় নায়। সাকিব একের পর এক জুটি গড়ে গেছে। তবে হতাশ হয়েছিলাম ব্যাটিং পাওয়ার প্লের খেলা দেখে। যাই হোক সাকিব আসলেই প্রচন্ড ভাল খেলেছে এই সিরিজে। আজকেও তিনটা উইকেট পেল। সাবাশ বাংলাদেশ, সাবাশ সাকিব। আশা করি নিউজিল্যান্ড কে চুনকামের ব্যাপারটায় কোন ঢিলেমি করবে না 😀

০২।
কালকে সত্যজিতের একটা সিনেমা দেখলাম, গণশত্রু। ইবসেনের ‘enemy of the people’ নাটকের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা সত্যজিতের সিনেমা। সত্যি বলতে কী সত্যজিত এই গল্পটাকে চমতকার ভাবে লোকালাইজড করতে পেরেছে অর্থাৎ এই উপমহাদেশের প্রেক্ষিতে চমতকার ভাবে এই সিনেমাটা তৈরি করা হয়েছে। তবে এই সিনেমার শেষ পাঁচ মিনিট সত্যিকারের মন ভাল করে দেওয়া। যারা সিনেমাটা দেখেন নাই তাদের জন্য এই সিনেমাটা অবশ্যই রিকমেন্ড করা যায়।

০৩।
গত কয়েকদিন ধরে বাসায় বসে আছি। তেমন কোন কারণ নেই, শুধু শুধুই। খেয়াল করে দেখলাম মাঝে মাঝে এইরকম চুপচাপ সবার থেকে যোগাযোগহীন বসে থাকতে খারাপ লাগে না। ব্লগ পড়ি, ফেসবুকে মানুষের কাজ কর্ম দেখি, সিনেমা দেখি, টিভি দেখি।

০৪।
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। লিখতে লিখতেই বৃষ্টির শব্দ পাচ্ছি। ভালই হল। তবে ভাল কথা হল খেলার সময় এই বৃষ্টিটা আসে নি। টিপটিপ বৃষ্টি। বৃষ্টির পর গরম না বাড়লেই হল। একটা সময় কত বৃষ্টি চাইতাম। কারণ বৃষ্টি হলেই ছুটি পাওয়ার মোক্ষম বাহানা তৈরি করা যায়। সব ছোটোরাই মনে হয় একসময় এই রকম চায়।

০০।
এই ব্লগটা খুলেছিলাম নিজের মত নিজেই বকবক করার জন্য। প্রথম প্রথম ভাবতাম যেহেতু এইখানে লেখার মান নিয়ে ভাবাভাবির কিছু নেই তাই প্রতি সাপ্তাহে চার পাঁচটা লেখা লিখে ব্লগটা ভাসিয়ে দিব। কিন্তু আফসোস। প্রথম প্রথম একটু একটু জোশ থাকলেও এখন মনে হয় মাসেও দুই তিনটা লেখা হয় না। কখনো কখনো চার পাঁচ দিনেও একবার ব্লগটা ওপেন করা হয় না। সময় বোধহয় এরকম, ইচ্ছে গুলোর উপর আস্তে আস্তে ধূলোর আস্তরণ জমিয়ে দেয়।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s