বিয়ে নিয়ে গপসপ

গতকাল সকালে হঠাৎ মাজাহারের ফোন পাওয়া গেল, বাসায় আসছে বিয়ের দাওয়াত দিতে। বিয়ের অনুষ্ঠান হবে একদম আমাদের বাসার পাশেই, হেটে গেলে লাগবে দুই মিনিটও লাগবে না। মাযাহারের সাথে সাথে রহমানও আসছে। এই দাওয়াত কার্ড নেওয়ার সময় বেশ মজাই লাগল আমাদের কলেজের ক্লাসমেটরা বিয়ে করা শুরু করে দিয়েছে। অবশ্য মাযাহার প্রথম না বলা যায় তৃতীয়। গত মাসেই মতিউর আর ইশতিয়াকের বিয়ে হয়ে গেল। বছরের দুই নাম্বার মাসের মধ্যেই তিন জন শহীদ হয়ে গেছে হয়ত বাকী দশ মাসে শহীদ হবে আর জনা দশেক। বোঝাই যাচ্ছে যারা জব মার্কেটে ঢুকে পড়েছে তারা একটু সুযোগ পেলেই আর দেরি করবে না।আমি এখনো ছাত্র এবং আর বেশ কিছুদিন ছাত্র থাকার ইচ্ছে আছে তাই এই লাইনে সম্ভবত আমি আমার কলেজ মেটদের মধ্যে সবার শেষের দিকেই থাকব।

তবে কাছাকাছি সময়ে কলেজ মেটদের মধ্যে তিনটা বিয়ে দেখার ফলে বুঝলাম বিয়ে বিয়ে করে পোলাপাইন যত লাফায় জিনিসটা আবার তত সোজা না। কত রকম ঝামেলা, গ্যাঞ্জাম। সব কিছু ম্যানেজ করে তার পরে না বিয়ে। এই যে তিনটা বিয়ে হল এর মধ্যে এক বিয়েতে কয়েকজন ভিতরে ভিতরে অভিমান করল তাদের এনগেজমেন্টে দাওয়াত দেওয়া হল না কেন। প্রথমে কথা ছিল সেই অনুষ্ঠানে কলেজের কেউ দাওয়াত পাবে না এরপর দেখা গেল কয়েকজন পেয়ে গেছে তখন যার বিয়ে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বেশ অভিমান টাইপ করল আরকি তবে মনে মনেই। তবে আমার মত হল বেচারা কে দোষ দিয়ে লাভ নাই, আমাদের বয়েসি একটা পোলা এরকম একটা ঝামেলা সামলাচ্ছে যেখানে হাজারটা সামাজিকতা সারতে হয় সেখানে দুই একটা ভুলচুক হতেই পারে। তবে এই ঘটনা দেখে বুঝলাম ফাইজলামি করে যতই বিয়ে বিয়ে চিল্লাই না কেন এখনো এতসব ঝামেলা সামলানোর মত পাক্কা মানুষ হতে পারি নাই। তাই পড়াশুনা শেষ করে সাথে সাথে চাকরি পেয়ে গেলেও কিছুদিন একা একা শান্তিতে ঘোরাঘুরি করা ভাল।

আমার এক কাজিনের জন্যে পাত্রী খোজা হচ্ছে। আম্রিকা থেকে আসছে বিয়ে করার জন্যই তবে এসেই বুঝছে বিয়ে করা কত ঝামেলার একটা কাজ। গত তিন মাসে পাত্রী সে খুজে পায় নাই। না না, বাংলাদেশে মেয়ের অভাব নেই কিন্তু এতসব মিলিয়ে উপযুক্ত পাত্রীর বড় অভাব। সব ভাইবোনের ছোট সে তাই দেখা যায় তার যে পাত্রী পছন্দ সেটা আবার বড় ভাইবোনেরা নাকচ করে দেয় আবার তারা যাকে উপযুক্ত মনে করে তাকে সেই কাজিনের পছন্দ হয় না। সব দেখে শুনে আমার মনে হচ্ছে এইবার তাকে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সিঙ্গেল ঝুলিয়েই আম্রিকা ফেরত যেতে হবে। আফসোস করে বেচারা ঐদিন আমাকে বলে একটা প্রেম কর তাইলে বিয়ের সময় এতশত ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না 😛

তা প্রেমের কথা যখন উঠলই তখন এই জায়গায় নজর দেওয়া যাক। আমাদের ক্লাসমেটদের মধ্যে যারা প্রেম করে তাদের অধিকাংশের প্রেমিকা বা প্রেমিক তাদের সমবয়েসি। এখান থেকেই শুরু হয় আর বিশাল ঝামেলার কাহিনি। কারণ সাধারণত মেয়েদের বিয়ে বাংলাদেশে ছেলেদের তুলনায় বেশ আগেই হয় কিন্তু বেচারা প্রেমিকেরা হয়ত এখনো পাশ করেই বের হয় নি যারা হয়েছে তাদের আয়-ইনকাম এত বেশি না যে একটা ফ্যামিলি চালাতে পারবে এই ঢাকা শহরে। দুই দিকের চাপে এদের এখন কই যাই কই যাই টাইপ অবস্থা। আর কাহিনি আছে, ধরেন একটা বেশ ভাল চাকরিও পেলেন যে সেটা দিয়ে যথেষ্ঠ ভালভাবে বিয়ে-থা করে এই ঢাকা শহরে থাকতে পারবেন কিন্তু সেখানে শুরু হবে এবার অন্য রকম গ্যাঞ্জাম। ছেলে বা মেয়ে যত যোগ্যতাশালী আর যত ভাল ব্যাকগ্রাউন্ডেরি হোক না কেন এইবার আর প্যরেন্টস গোষ্ঠী রাজি হবে না। কারণ? কারণ কিছুই না তোরা প্রেম করলি কেন। হয়ত বাবা-মা কে ছেলে বা মেয়ে খুঁজতে দিলে সেই একই ব্যক্তি কে নিয়ে আসতেন তারা কিন্তু ঘটনা হল যেহেতু প্রেমটা তাদের অনুমতি নিয়ে হয় নায় তাই তারা কিছুতেই রাজি হবেন না। আর এইসব চাকরি,বেতন, প্যারেন্টস গোষ্ঠী ইত্যাদি নানা রকম চাপে ছেলে মেয়ে গুলার অবস্থা পুরাই নাস্তানাবুদ। বন্ধু বান্ধব্দের মধ্যে এরকম ঘটনা তো আর কম দেখা হল না 😦

দাড়ান এতসব সিরিকাস সিরিকাস কথা মধ্যে একটা হালকা পাতলা কথা বলি তবে এইটাও কিন্তু বাস্তব। এই কিছুদিন আগে সকালবেলার ক্লাস হবে না তাই অনেকে গেছে নাস্তা করতে কারণ একটু পরে আরেকটা ক্লাস হবে। তা ক্লাসের মধ্যে আমরা জনা কয়েক ছেলে মেয়ে গোল হয়ে বসে গল্প করছি। আমাদের থেকে একটু পিছনে বসে মহামান্য সেলিম কী জানি একটা পড়ছে, তা গল্পে গল্পে আড্ডার বিষয় বিয়ে প্রেম ইত্যাদি বিষয়ে গিয়ে ঠেকল। এতক্ষণ সেলিম আড্ডায় অংশ না নিয়ে নিজেই কীজানি পড়ছিল এইবার হঠাৎ সে জোরে বলে উঠল, এত বিয়ে বিয়ে করার কী আছে। বিয়েতে তো সব ঝামেলার বিষয় শুধু একটা জিনিস বাদে। এই কথা শোনার সাথে সাথে ছেলে মেয়ে সব একসাথে বলে উঠল- কোনটা সেলিম 😀

তবে আজকে বিয়ে নিয়ে অনেক ভয় দেখায়ে ফেললাম মনে হয়। আসলে কারণ হল নিজে যেহেতু লাইনের পিছনে আছি তাই ভয় দেখায়ে অন্য কাউকে পিছনে আনা যায় কীনা সেটাই ছিল উদ্দেশ্য। তবে বেশি ভয় পেলে উপরে আমার বন্ধু সেলিমের করাটা মন্তব্যটা খালি মনে রাখবেন 🙂

Advertisements

3 thoughts on “বিয়ে নিয়ে গপসপ

  1. শুধুতো বিয়ে করার ঝামেলার কথা লিখেছ, ঝামেলার এটা সবে মুখবন্ধ। ভূক্তভোগীর পরামর্শ-ও সবে না যাওয়াই ভাল ভাই। জীবনটা তো আর টেপ রেকর্ডারের টেপ নয় যে পছন্দ হল না আর মুছে ফেললে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s