বৃষ্টি দিনে কাটাকাটি খেলা-১৯

০।
আজকাল বেশ বৃষ্টি হচ্ছে বেশ। সকাল, দুপুর, বিকেল ঠিক নেই। আজকে ক্লাসে যাবার আগে দেখি আকাশ কাল করে আসছে তাও ভাবলাম যাই ক্লাস করে আসি, কয়েকদিন ক্লাস করি না আজকে নাহয় গেলাম ক্লাসে। রাস্তায় মাঝখানে বৃষ্টি শুরু হল (ভাগ্যিস ছাতা ছিল)। এরপর নানা কায়দা কানুন করে আসলাম ক্লাসে এবং এসেই দেখি অন্য কান্ড। আমাদের ক্লাস যে কোথায় হচ্ছে খুজে পাই না। চারতলার সব খোজার শেষে বুঝলাম একটা গন্ডগোল আছে। এক ক্লাসমেটকে ফোন দিতেই দেখি ব্যাটা ঘুম ঘুম স্বরে ফোন তুলছে। আমি ক্লাসে আসছি শুনেই দেখি হাসি শুরু করছে। হাসি থামার পর জানা গেল গতকাল নাকি স্যার নোটিশ দিয়ে দিয়েছিল আজকে ক্লাস হবে না কিন্তু আফসোস সেই খবর তো আমি জানি না তাই অন্যদিন ক্লাস না করলেও আজকে বৃষ্টির মধ্যে হাচড়ে পাচড়ে ঠিকি হাজির হইছি 😦

০১।
একটা জিনিস খেয়াল করলাম আমার পরিচিতদের মধ্যে অনেকেই লেখালেখি বিষয়টা নিয়ে খুব সিরিয়াস। তা সেটা ব্লগর ব্লগর হোক কিংবা কোন গল্প প্রবন্ধ হোক। প্রথম প্রথম যখন ব্লগের সন্ধান পেলাম তখন মনের ভিতর দারুণ উত্তেজনা কাজ করত। একটা নতুন লেখা লিখেই ব্লগে পোস্টাতাম এবং তারপর অপেক্ষা কখন এটা নীড়পাতায় আসে আর কখন কেউ পড়ে মন্তব্য করে। প্রথম প্রথম কার কার মন্তব্য পেলে মনে হত সেদিন বুঝি অলিম্পিকে একটা গোল্ড মেডেল পেয়ে গেলাম। এরপর থেকে কেমন করে জানি উতসাহ কমে গেল। আস্তে আস্তে একদিন এই ব্লগটাই খুলে বসলাম চুপচাপ কথা বলবার জন্য। সেই পুরান চার্মটা আর পাই না তাই হয়ত আজকাল লেখা হয় খুব কম।

০২।
গত কয়েকদিন আগে চুল কাটালাম। প্রতিবার চুল কাটাবার পর যা হয় এইবারো তাই হল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কতক্ষণ হাসলাম। চুল বেশি বড় রাখতে পারি না গরম লাগে তাই প্রতিবার ছোট করে ফেলি এবং ছোট করার পর নিজেকে নিজে দেখলেই চোর চোর লাগে 😛
কলেজে থাকতে এক সিনিয়র ছিল, চুল নিয়ে তার কত বাহার। আমাদের আবার প্রতি দুই সাপ্তাহে একবার বাটিছাট দেওয়া হত। প্রতিবার চুল ফেলার আগে দেখতাম নাপিতের সাথে সেই ভাইয়ের চুল আরেকটু বড় রাখার জন্য সে কি দর কষাকষি। এই ভাইকে আমি দিনে যতবার দেখতাম তার ৬০ ভাগ সময়ে তাকে দেখা যেত চুলে আংগুলের চিরুণী চালাচ্ছে। একবার ভাইয়ের পাশ দিয়ে যাবার সময় সেই কথা আস্তে আস্তে আরেক ক্লাসমেটকে বলছিলাম এবং বলেই দেখি বিপদ। সেই ভাই কেমনে কেমনে জানি শুনে ফেলছে সেই কথা। এইবার সে ধরছে আমাকে। তার এক কথা, কেন বললা এই কথা? যতই বলি না ভাই এমনি বলছি সে কোন ভাবেই মানে না। আমাকে এই পানিশমেন্ট সেই পানিশমেন্টের ভয় দেখায় তারপরেও যতই আমি বলি না ভাই এমনি বলছি কোন কিছু চিন্তা করে বলি নাই উনি দেখি আর বেশি ক্ষেপে। হাহ, সেইবার এইটা নিয়ে কত ক্যারাব্যারাই না হল 🙂

০৩।
জীবনে প্রথম চাকরির পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি শুক্রবার, অবশ্য দিল্লি এখানে দূর অস্ত কারণ এটা বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা। প্রস্তুতি বলতে গেলে নাই। গত সাপ্তাহ দু’য়েকে যা প্রস্তুতি নিচ্ছি সেটাই ভরসা। অন্যদের দেখলে অবশ্য সে ভরসা থাকে না। ক্যাম্পাসের প্রচুর ছেলেমেয়ে সিরিয়াস এই বিষয়ে। আমাদের ক্লাসেতো বলতে গত সাপ্তাহ দু’য়েকে উপস্থিতি কমে গেছে অনেক শুধু বিসিএস এর জন্য। সবাই বাসায় নাইলে হলে বসে বসে পড়ে। বাংলা, ইংলিশ, সাধারণ জ্ঞান, অংক, বিজ্ঞান এইসব বিষয়ে অনেকের সাথে কথা বলে মনে হচ্ছে পাহাড় সমান প্রস্তুতি সবার। আমার প্রস্তুতি অবশ্য তুলনা করলে কিছুই না কিন্তু এত টাকা দিয়ে পরীক্ষার ফরম যখন কিনলাম তখন পরীক্ষা না দিয়ে কই যাব বলেন। অভিজ্ঞতা অর্জন বলেও একটা আছে না 😀

০৪।
আজকে অনেকদিন পর ব্লগটা ভাল করে আবার খেয়াল করে দেখা শুরু করলাম। মাঝখানে হয়ত দু’য়ে্কটা লেখা দিয়েছে কিন্তু তাও সেগুলো আসলে অন্য কোথাও লেখা খালি এখানে নিয়ে আসা রেখে দেওয়া। হিসেব করে দেখেলাম প্রায় মাস ছয়েক ধরে অনিয়মিত। ওয়ার্ডপ্রেসের ভিতরের ব্লগগুলোও পড়া হয় না অনেকদিন। গতকাল খুজতে গিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসে দুইটা ভাল ব্লগ পেলাম। আশা করি আস্তে আস্তে ভাল করে জমিয়ে পড়া যাবে সময় নিয়ে। দিনলিপি টাইপ ব্লগ গুলো কেন জানি খুব ভাল লাগে। হয়ত মানুষের সিক্রেট জানতে ভাল লাগে তাই 😛

ওয়ার্ডপ্রেসে অনেক নিয়মিত বান্দাদের আজকাল দেখা যায় না (অবশ্য আমি নিজেই নিয়মিত না হয়ত সে জন্য চোখে পড়ে না)। শীতনিদ্রা ফেলে এইবার আবার ব্লগিং করতে হবে ভাবছি, সব ব্লগে সবখানে- জলে, স্থলে এবং অন্তরীক্ষে 🙂

০০।
ফেসবুক প্রচুর সময় নষ্ট করে। ফেসবুকিং না করে ব্লগিং করলে কিংবা গল্পের বই পড়লেও একটা কাজ হয়। আগেও কয়েকবার এই প্রতিজ্ঞা নিয়েছে দেখে যাক এইবার কী হয়। অবশ্য ভাংলেও সমস্যা নাই কারণ মনে নাই হৈমন্তীতে কি বলা ছিল? প্রতিজ্ঞা করা হয়ই প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার জন্য 😀

Advertisements

4 thoughts on “বৃষ্টি দিনে কাটাকাটি খেলা-১৯

  1. “এরপর থেকে কেমন করে জানি উতসাহ কমে গেল। আস্তে আস্তে একদিন এই ব্লগটাই খুলে বসলাম চুপচাপ কথা বলবার জন্য। সেই পুরান চার্মটা আর পাই না তাই হয়ত আজকাল লেখা হয় খুব কম।”– ঝিনুকে মুক্তো হলে চুপ হয়ে যায়, মুখ খোলে না…

    • হাহাহা…ঝিনুকে মুক্তো হলে মুখ খুলে না এইটা একটা গান না??? তবে আসল কথা হইল ঝিনুকেরই অস্তিত্ব নাই সেখানে মুক্তো আসবে কোথা থেকে 😛

  2. লেখাটা সুন্দর খুব।আমার ফেসবুকিং ভাল্লাগেনা,তাই ওখানে ঘোরাঘুরি কম হয়।গল্পের বই পড়ি অনেক কিন্তু পড়ার বইয়ের বেলায় ঢু ঢু।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s