কাটাকাটি ২১

০।
কয়েকদিন ধরে চারিদিকে বেজায় শীত। আবহাওয়ার খবর না দেখলেও বাতাস আর তার সাথে আসা কাপুনি জানিয়ে দেয় শৈত্য প্রবাহ চলছে। ভার্সিটি লাইফের শেষ পরীক্ষাও শেষ আর ১৯ তারিখ স্টাডি রিপোর্টও জমা দিয়ে দিলাম। এখন আর কিছুই করার নাই। শীতের মধ্যে কম্বলের ভিতর ঢুকে খালি ঘুমাই নাইলে গল্পের বই পড়ার চেষ্টা করি। পড়ার চেষ্টায় অবশ্য বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যায় না কয়েকদিন ধরে। এই শীতে বন্ধ জানালা আর রূমের আধো আলোছায়া ঘুম ডেকে আনে জলদি। টিভিও দেখা হয় না। কম্পুতে নতুন মুভি নাই। দেখি একদিন কার কাছ থেকে হানা দিয়ে আনতে হবে কিছু।।

০১।
কালকে বই কিনলাম চারটা। অবশ্য বই কিনার নিয়তে আজিজে যাই নাই। গিয়েছিলাম সান্ধ্যকালীন আড্ডায়। বিকেলে কেউ নাই, নিয়মিত আড্ডাবাজ তারেক ভাইও টুটুল ভাইয়ের সাথে কই জানি গেছে। আমি তাই কতক্ষণ চাচীর দোকানে ঝিমালাম। এরপর ভাবলাম যাই একটু বইয়ের দোকানে যাই। প্রথমে কতক্ষণ বিদিততে বই ঘাটাঘাটি করলাম। বিদিতের মালিক সম্ভবত আমার উপর বিরক্ত কারণ প্রায় দিন এসে বই কিনব এই রকম ভাবে কতক্ষণ ঘুরাঘুরি করি কিন্তু প্রায়ই কোন বই কিনা হয় না। গতকাল একটা বই অবশ্য পছন্দ হয়ে গেল। কাদের সিদ্দীকির মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ। পরে অবশ্য আর কেনা হল না দাম দেখে। এরপর সময় কাটানোর জন্য এই দোকান সেই দোকান ঘুরে হাজির হলাম প্যাপিরাসে। প্যাপিরাস দোকানটা আমার সব সময় ভাল লাগে। এই দোকানের লোকগুলি বই বুঝে। এদের বইয়ের কালেকশন ভাল। কিছুক্ষণ দেখেটেখে তিনটা বই পছন্দ হয়ে গেল। যদিও কিছু কিনব না ভেবেছিলাম কিন্তু লোভ হইল এবং লোভে পাপ, পাপে টাকা খরচ। সব মিলিয়ে বইয়ের দাম চাইল তিনশ আশি টাকা। আমি ভাবলাম আজকে বুঝি আর বই কিনা হবে না কিন্তু ম্যানিব্যাগ খুলে দেখি বাহ, বেশ ভালৈ টাকা আছে ভিতরে। তা এই তিনটা বই অনেকদিন ধরে কিনব বলে ব্যাকলিস্টেড ছিল। কালকে লিস্ট ধরে খতম করে দিলাম তাই বই তিনটা। প্রথমে আছে রাও ফরমান আলীর বাংলাদেশের জন্ম নামক বইটা মুনতাসীর মামুনের একটা ভূমিকা সহ, আছে নুরুল কাদের খানের একাত্তর আমার নামে স্মৃতিকথা। নুরুল কাদের খানের ব্যাপারে অনেক লেখায় পড়ে বেশ আগ্রহ জন্মেছিল। মোটামুটি অর্ধেক পড়া হয়ে গেছে এর মধ্যে। বুঝা যায় দারুণ আকর্ষণীয় চরিত্র ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব, প্রথম সংস্থাপন সচিব এবং মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। যাই হোক এই বই নিয়ে পরে পাঠকের ডায়েরিতে লেখার ইচ্ছা আছে। আরেকটা বই হল পূর্বাপর ১৯৭১, পাকিস্তানি সেনা গহব্বর থেকে দেখা। এইটা নিয়েও পরে বিস্তারিত কথা হবে। আর সবশেষে কিনলাম কায়েস আহমেদ সমগ্র। দাম বেশ কম।

০২।
আজকে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনেকক্ষণ রাইয়্যান ভাইয়ের সাথে গল্প হল, সাথে পলাশও ছিল। ২৭ তারিখ উনি বিদেশ চলে যাবেন তার আগে এইটাই সম্ভবত শেষ আড্ডা। নানা বিষয়ে প্রচুর কথা হইল, বকবক হইল। এই লোকটারে আমি ভালু পাই অবশ্য কোনচিপার সবলোকদের ভালু পাই। কোনচিপার আড্ডার কথা উঠলেই কেন জানি আমার বনিক ভাই, তারেক ভাই, রাইয়্যান ভাই আর মেহেদী ভাইয়ের কথা মনে আসে। হিসেব করে দেখলাম গত বছর সাড়ে তিন ধরে এই লোকগুলার সাথেই আমি ৩৬৫ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ২৬৫ দিন আড্ডা দিছি। প্রতিদিন গড়ে দুই তিন ঘন্টা করে ধরলেও একটা বিশাল সময়।

০০।
সামনে কী করব জানি না। সব লক্ষ্যহীন। দেখা যাক কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

Advertisements

5 thoughts on “কাটাকাটি ২১

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s