কাটাকাটি ২২

অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস। অনেকদিন কিছু লিখি না তাই লিখতে বসে কী লিখব আর কীভাবেই বা লিখব এটা নিয়ে অনেকক্ষণ চিন্তা করতে হল। এত চিন্তা করেও লিখবার জন্য কঠিন কঠিন কোন বিষয় খুজে পেলাম না। এটা অবশ্য আমার পুরাতন একটা সমস্যা। স্কুলে থাকতে স্যাররা বলত রচনা লিখবার সময় (বিশেষ করে ইংরেজী রচনা) যেন পারলে ভারী ভারী শব্দ ব্যবহার করি। ছেলেপেলেরা খুজে খুজে বিভিন্ন শব্দের কঠিন কঠিন প্রতিশব্দ বের করত শুধু এই উদ্দ্যেশে। একেতো অলস মানুষ তাই কঠিন প্রতিশব্দ শিখবার ইচ্ছে নেই আর সহজ কথা কেন কঠিন করে বলতে হবে এটাও বুঝি না ঠিক মত তাই এই ব্যাপার ব্যর্থ সব সময়। যাই হোক আজকেও কথা হবে সব সহজ সহজ বিষয়ে

 

এইবার ঈদে একটা বড় ছুটি পাওয়া যাবে। মাঝখানে দুই দিনের ছুটি নিতে পারলে এক ধাক্কায় প্রায় নয় দিন। আশা করা যায় ১৫ তারিখ থেকে ঢাকা খালি হতে শুরু করবে। এই খালি হওয়া ঢাকায় ঘোরাঘুরি করতে কিন্তু বেশ আরাম। রিক্সা আমার প্রিয় বাহন। ঈদের এই সময়টায় রিক্সার অবাধ যাতায়ত থাকে পুরা ঢাকা জুড়ে। তবে একটু রাত হলেই মানে নয়টার পর গেলেই এই সময়টায় ঘোরাঘুরি করতে বেশ ভয় লাগে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রাস্তায় মানুষ জন অনেক কম থাকে সেই অনভ্যস্ততা থেকেই হয়ত আসে ভয়। এইবার অবশ্য ঈদের সময় খুব একটা ভাল যাবে বলে মনে  হয় না। আড্ডার মানুষেরা অনেকেই বাইরে চলে গেছে। থাকার মধ্যে আছি শুধু আমি আর তারেক ভাই আর বড়জোড় যোগ হতে পারে পলাশ। হায় সময়ের সাথে কেন বৃত্ত ছোট হয়ে যায়।

 

গত দিন দুই তিন ধরে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া কে নিয়ে ফেসবুকে দেখি ভালৈ হাসাহাসি শুরু হইছে। যদিও এখন একটু বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে তবে কথা হচ্ছে এইরকম বলদ মার্কা এড তৈরির বুদ্ধি এদের কে দিয়েছিল। প্রকৃত সোল মেট আর গাড়ি কিনতে হলে যেতে হবে আপনাকে সাউথ এশিয়া ইউনিতে। হায় বলদের দল। অবশ্য কয়েকদিন আগে শিমুল ভাইয়ের এক ব্লগে অনান্য ভার্সিটিগুলার এডের একটা তুলনামূলক চিত্র দেখেছিলাম। সবাই খালি বলে আমাদের এখান থেকে ডিগ্রি নেন তাইলে জীবনে উন্নতির সিড়ি বেয়ে তরতর কর এগিয়ে যাবেন। কেউ অবশ্য তাদের কেমন ফ্যাকাল্টি আছে, তাদের যোগ্যতা কেমন, কেমন লাইব্রেরি ফ্যাসেলিটিস আছে এইসব অত্যাবশ্যক কথা বলে না। তাদের এসি রুম আছে কীনা, এখান থেকে পড়লে গাড়ি কিনতে পারবেন কীনা এইসব নিয়েই তাদের যত সব চিন্তা। আরে বাপ তুই যদি ভাল শিক্ষা দিতে পারিস একদিন এমনিতেই এইসব পাওয়া যাবে। অবশ্য পোলাপাইন গুলা আর তাদের প্যারেন্টস এর চিন্তাভাবনাও গাড়ি কেন্দ্রিক তাই কী আর করা। অন্যদিকে বিজ্ঞাপনের মত তামশা না করলেও পাবলিক ভার্সিটি গুলা তাদের শিক্ষামানের খুব একটা উন্নতি করতে পারে নাই, অনেক ক্ষেত্রেই তারা আগের থেকেও পিছিয়ে পড়ছে।

 

বন্ধু বান্ধবেরা দেখি সব বিদেশে পড়তে যায়। আমারো ইচ্ছে আছে কিন্তু যা বুঝলাম আমি এখনো পিছিয়ে আছি বহুত। সেপ্টেম্বর এসে গেল বলে প্রায় কিন্তু আমি এই নিয়ে কোন কাজ করি নাই। টোফেল, আইএল্টিস, জিয়ারি কিছুই দেয় নাই। কোন খানে প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ করি নাই। আবার রিটেন এর পড়া পড়তে গিয়ে প্রস্তুতিও নেয়া হয় নায়। মাঝে মাঝে কিছু মানুষ কে দেখলে হিংসা হয় এরা এত গোছানো কেন?

 

ল্যাপটপের চার্জ প্রায় শেষ। তার উপর অনেকদিন বাদে একশ শব্দের বেশি লিখতে পারচি যাই আজকের মত ক্ষ্যামা দিই।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s