কাটাকাটি ২৩

অনেকদিন কাটাকাটি করি না তাই আজকে আবার কাটাকাটি ২৩।

০১।
আগে এক সময় ডায়েরি লিখতাম। প্রতিদিন না হলেও সাপ্তাহে অন্তত দুই একবার। নানা ঘটনার কারণে কলেজে উঠার পর থেকে অনিয়মিত হতে হতে আস্তে আস্তে এক সময় বন্ধ হয়ে গেল ডায়েরি লিখা। আর পুরাতন ডায়েরি গুলার অনেকগুলাই কলেজে থাকতে এক ঘটনার কারণে নষ্ট করে ফেললাম। তবে সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কেমনে কেমনে জানি বেচে গেছে দুই জন। এদের ঘাটলে মাঝে মধ্যে কত পুরান কথা বের হয়ে পড়ে তখন আবার নষ্ট করে ফেলা ডায়েরিদের কথা মনে আসে। তখন মনে হয় রাগ বড় খারাপ জিনিস।

০২।
আজকে পুরাতন পোস্ট ঘাটার সময় দেখি ২০১১ এর জানুয়ারিতে লেখা এক পোস্টে রাইয়্যান ভাইয়ের প্রথম সাইকেল যাত্রার কথা লেখা আছে। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। আর রাইয়্যান ভাই তার সাইকেল এডভেনচার ছেড়েছুড়ে বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। সেই সাইকেল পর্বের ফসিল হিসেবে টিকে আছে পলাশ আর তার সাইকেল। সেই পুরাতন যুগের অনেকেই অনেক দিকে ছিটকে গেছে।

তখন একবার পরিচয় হয়েছিল সাইদ ভাই নামে এক ভদ্রলোকের সাথে। উনি সাইকেলে বিশ্বভ্রমণে আগ্রহী ছিলেন। স্পন্সর যোগাড় করার জন্যে দৌডঝাপও করছিলেন বিস্তর। এরপর অনেকদিন যোগাযোগ নাই। সেই বিশ্বভ্রমনে কী সাইদ ভাই আদৌও যেতে পেরেছেন বা যেতে পারলেও কই আছেন জানতে ইচ্ছে করছে।

০৩।
গতকাল একটা ইনফরমাল আলোচনা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আয়োজক ছিল প্রধানত অক্সফার্ম বাংলাদেশ আর বিষয় ছিল খাদ্য নিরাপত্তা। এটার খবর দিয়েছিল পান্থ’দা। মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান স্থল খুজে খুজে বের করতে প্রথমে একদফা নাকাল হতে হল। ভিতরে গিয়ে দেখি পরিচিত মুখ আছে কয়েকটা। আলোচনার সঞ্চালক রেজওয়ান ভাই, পলাশ আর পান্থ’দা পরিচিত মানুষ। এর মধ্যে সামুর পুরাতন ব্লগার কৌশিক আর অন্যমনষ্ক শরত কে দেখলাম। এদের মধ্যে ব্লগার কৌশিক কে চেহারায় চিনলেও এমনিতে পরিচয়া নেই। আর দেখলাম রাতঃস্মরণীয়ঃ আর শশাঙ্ক বরণ রায় কে। এদের লেখা পড়লেও সামনা সামনি দেখা এই প্রথম। আর কয়েকজন ছিলেন নাম কিন্তু নাম মনে করতে পারছি না। একজন কৃ্ষক ছিলেন যিনি আজকের জাতীয় কৃ্ষক শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা এসেছেন। অক্সফার্মের ছিলেন সম্ভবত তিনজন। একজন ছেলে আর দুই জন মেয়ে। এদের মধ্যে একজনের নাম মনে আছে উনার বর্তমান পেশা নিয়ে করা উক্তিটার জন্য। মনীষা নামের ভদ্রমহিলা বললেন, এনজিও লাইনে উনি এসেছেন বাই চয়েজে অন্য অনেকের মত কিছু করার নেই বলে না। নিজের কাজের প্রতি কার ডেডিকেশন দেখলে ভাল লাগে।

অক্সফার্মের এই উদ্যোগটা ভাল লেগেছে। এদের এই আলোচনার মূল উদ্দ্যেশ ছিল ব্লগারদের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন করা এবং সোশ্যাল মিডিয়াই এই ব্যাপারে কীভাবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় এই ব্যাপারে তাদের মতামত জানতে চাওয়া। আলোচনা খুব একটা খারাপ হয় নাই, যথেষ্ট প্রাণবন্ত ছিল। কেন জানি মনে হল অংশ নেওয়া অনেক ব্লগারের হয়ত খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আসলে ধারণা পরিষ্কার না। তাহলে আলোচনাটা বোধহয় আরেকটু ভাল জমত। তবে অক্সফার্ম কর্মীদের আরেকটা আগ্রহের জায়গা ছিল কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া কে এই ব্যাপারে আর ভাল ভাবে ব্যবহার করা যায় এই ব্যাপারে বাকি ব্লগারদের পর্যবেক্ষণ সত্যিকারে কাজের ছিল।

খাদ্য নিরাপত্তা আমাদের পড়াশুনার সময় সরাসরি কোন কোর্স না থাকলেও গভার্নেন্স আর ডেভেলপমেন্ট এই দুইটা বিষয়ের জন্য ঝাড়াঝাড়া করা লাগছিল। কালকে অংশগ্রহণকারী সবাই কে বেশ অনেকগুলা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিল এই ব্যাপারে। বাসায় এসে উল্টাতে উল্টাতে আফসোস জাগল মনে। আহারে ঐ সময় এই ডকু গুলো পেলে কষ্ট করে না খুজে আল্লাহর ওয়াস্তে এখান থেকেই খাতায় ঝেড়ে দেওয়া যেত।

এই লেখাটা লিখতে লিখতে ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডে দেখি GROW প্রোগ্রামের (এই প্রজেক্টের নাম) লোকেরা একটা ব্লগ খুলে ফেলছে। ভাল লাগল। কালকের অনুষ্ঠান যে শুধুই লোক দেখানোর ছিল না বরং উনাদের যে কাজ করার ইচ্ছে আছে এটা দেখে ভাল লাগল। ইচ্ছে করতাছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে পুরাতন জ্ঞান ঝালাই করে কিছু জিনিস লিখি। অবশ্য ভয় পাওয়ার কিছু নাই খাদ্য নিরাপত্তা কোন রিসার্চ পেপারের ভয়াংকর কঠিন কোন বিষয় নয়। এটা নিয়ে কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই প্রায় প্রতিদিন কিছু না কিছু বলি বা আলোচনা করি। যেমন- বাজারে চালের দাম এত বাড়লে সামনের মাস গুলোতে কী হবে, এইবার বন্যার কারণে যে ফসল নষ্ট হল তার কারণে জিনিস পত্রের দাম কত বাড়তে পারে বা সেই সবজি বগুড়ায় কেজি পাঁচ টাকা সেটাই আবার ঢাকায় কীভাবে কেজি সত্তর টাকা হয় অথবা শাকসবজিতে ফরমালিন ইত্যাদি ইত্যাদি। এইসব ব্যাপারে আসলেই সচেতনতার দরকার আছে। আর ব্লগ যদিও এখনো বাংলাদেশে তূলনামূলক একটা ছোট মাধ্যম তারপরেও সামনের দিনে এর শক্তিশালী ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। নেট ব্যবহারকারী মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তদের মতামত গঠনে এখনি ব্লগ যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই অন্তত ভবিষ্যতের কথা ভেবেও এখন থেকে কাজ শুরু করাটা দূরদৃষ্টির লক্ষণ।

আর এই ব্যাপার নিয়ে অবশ্য আরেকটা কথা বলা বাকি রয়ে গেছে, খানাখাদ্য। আলোচনা শেষে খাবার কিন্তু উপাদেয় ছিল 😀

০৪।
তারেক ভাই, মেহদি ভাই, নাজমুন আপু, আশু ভাই সবাই মিলে আজকে রাতে কক্সবাজার যায়। এই ব্যাপারে উনাদের দেখলাম সিরাম উতসাহ। সবচেয়ে বেশি উতসাহ অবশ্য মেহদি ভাইয়ের। বিয়ের পর এই প্রথম নাজমুন আপু কে নিয়ে কোথাও যাওয়া হচ্ছে উনার। তারেক ভাইয়ের ভাষায় হানিমু আফটার টু ইয়ার্স। ব্যাপারটা অবশ্য খারাপ না, হাজার হোক বেটার লেট দ্যান নেভার 😀

০৫।
সন্ধ্যায় সেলিম,লুনা আর রবিউলের সাথে আড্ডা হল। আজকে ভালৈ জমছিল আড্ডাটা। মন অবশ্য আগে থেকেই ফুরফুরা ছিল। বিকেল বেলা টলস্টয়ের ছোটগল্প সমগ্রের দুই খন্ডই নীলক্ষেত থেকে হস্তগত করলাম এই জন্য মন বেশ খুশি ছিল। তর্কাতর্কি, পারষ্পারিক উপদেশ, পচানো, দেশ, রাজনীতি, সমাজ ইত্যাদি মিলে আড্ডা বেশ ভালৈ জমজমাট ছিল। কবি বলেছেন এরকম আড্ডা দিলে শরীর আর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সেই জন্যেই লোকে বলে- আড্ডা দীর্ঘজীবি হোক।

০০।
গুড নাইট 🙂

Advertisements

3 thoughts on “কাটাকাটি ২৩

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s